
চট্টগ্রাম নগরীতে মিনহাজ উদ্দিন নামের এক যুবদল কর্মীর এক হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় মো. সবুজ (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মো. সবুজের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামাটিও উদ্ধার করা হয়।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১টায় নগরীর দামপাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া।
উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ইমামপাড়া এলাকায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মো. সবুজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কোতোয়ালি থানার বক্সিরহাট এলাকার জমিদার হাজী শরীয়ত উল্লাহ সওদাগর জামে মসজিদের পাশে আবু মিয়ার সবজির দোকানের সামনে চৌকির নিচ থেকে এ ঘটনায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা বা দা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৬ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী মো. মিনহাজ উদ্দিন (২৩) রিকশাযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কোরবানীগঞ্জ বলুয়ারদীঘির পাড় এলাকায় কয়েকজন সন্ত্রাসী তাঁর রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় আবদুল আউয়াল অপু, মো. সবুজ, তুহিনসহ ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে যুবদল কর্মী মো. মিনহাজ উদ্দিনকে রিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। হামলার একপর্যায়ে মো. সবুজ মাথায় কোপ দিতে গেলে যুবদল কর্মী মো. মিনহাজ উদ্দিন হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের কবজির নিচ থেকে হাত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় যুবদল কর্মী মো. মিনহাজ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মো. মিনহাজ উদ্দিনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে মো. মিনহাজ উদ্দিন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বর্বরোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন তানজিনা আক্তার বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া আরও বলেন, এর আগে বোন তানজিনা আক্তারের করা একই মামলার এজাহারভুক্ত এবং ১৮টি মামলার আসামি তুহিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মো. সবুজের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আবদুল আউয়াল অপুসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া নিশ্চিত করেন।