সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পেকুয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নিজ খরচে চার তরুণীর বিয়ে

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৩৮ অপরাহ্ন


অভাব-অনটনের সংসারে পরিবারের দুমুঠো খাবার জোগাড় করতেই যেখানে দরিদ্র গৃহকর্তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়, সেখানে আড়াই লাখ টাকার এক ভরি স্বর্ণ কিনে কিংবা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য গ্রামের বেশিরভাগ হতদরিদ্র পরিবারেরই নেই। আর সমাজের এই অসহায় মানুষগুলোর কথা ভেবেই নিজ খরচে বিয়ের ব্যবস্থা চালু করেছেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন। গত কয়েক বছর ধরে ব্যতিক্রমী এই মানবিক কাজের বদৌলতে তিনি স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় এবারও অভাবগ্রস্ত পরিবারের চার মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শীলখালী ইউনিয়নের পেঠানমাতবর পাড়ায় নিজ বাসভবনে চেয়ারম্যান কামাল হোছাইনের উদ্যোগে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে একটি ব্যতিক্রমী গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে চারজন বর ও চারজন কনের বিবাহ সম্পন্ন হয়।

কোলাহলমুক্ত এক উঠান, চারপাশে স্বজনদের ভিড়, আর মাঝখানে হাসি-আনন্দে ভরা কয়েকটি নতুন জীবনের শুরু—এমনই এক আনন্দঘন ও মানবিক আয়োজনের সাক্ষী হলো শীলখালী ইউনিয়ন। পুরো অনুষ্ঠান ঘিরেই ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ। দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের জন্য এমন আয়োজন যেন তাদের জীবনে নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতিদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান উপস্থিত অতিথিরা।

চার দম্পতির এই গণবিয়ে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শীলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন। এতে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক বেলাল উদ্দিন আহমদ, বশির আহমদ, ফরিদুল আলম সিকদার, অধ্যাপক সালাহ উদ্দিন, মাওলানা মনজুর আলম, পেকুয়া প্রেসক্লাব সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আনসারী এবং নেজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন জানান, তিনি জীবনে কখনো দুর্নীতি করেননি এবং কোনো দলের রাজনীতিও করেন না। শুধু মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন গণবিবাহ আয়োজনের ইচ্ছার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন বলেই অনেক সময় তাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তবুও তিনি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চান এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চেয়ারম্যানের এমন মহতী উদ্যোগ সমাজে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি বড় ধরনের সহায়তা। এই ধরনের মানবিক আয়োজন সমাজের অন্যান্য বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।