সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়ায় হারগেজী খালের ভাঙনে বিলীন শতবর্ষী সড়ক, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় হারগেজী খালের অব্যাহত ভাঙনে ধলঘাট ও কেলিশহর ইউনিয়নের সংযোগস্থলের শতবর্ষী একটি সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদাসীনতাকে দায়ী করে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর সমুরা সড়কটি ভাঙনের কবলে থাকলেও একাধিকবার পরিদর্শন ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধলঘাট ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে উত্তর সমুরা গ্রাম থেকে কেলিশহর রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি খালের গর্ভে চলে গেছে। কিছু স্থানে পুরোনো ইটের টুকরো ছাড়া রাস্তার আর কোনো অস্তিত্ব নেই। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাশের কয়েক একর জমির চাষাবাদও এখন হুমকির মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোয়ালখালী উপজেলার সঙ্গে পটিয়ার ধলঘাট ও কেলিশহর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হারগেজী খালের পাশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। স্থানীয়রা ভাঙন রোধে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েও কোনো সুফল পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জুয়েল বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে উত্তর সমুরা থেকে রতনপুর স্কুল সড়কটি খালের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। পটিয়ায় পাউবোর বড় প্রকল্প চলমান থাকলেও এই খালের ভাঙন নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। দ্রুত সমাধানের জন্য তারা পটিয়া আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, দুই যুগ ধরে সড়কটি বিলীন হলেও কোনো সরকারি কর্মকর্তা এটি পরিদর্শনে আসার প্রয়োজন মনে করেননি। একসময় মানুষের চলাচলের এই পথটি হারিয়ে যাওয়ায় এখন কৃষকদের চাষাবাদও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পাউবোর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে হারগেজী খালের ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। তৎকালীন সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সুপারিশে সে সময় উপ-বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ খালটি পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। খালটি বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় দুই এলাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায় এড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড পটিয়ার উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, তারা খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পটিয়ার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আমানুল্লাহ আমান জানান, ওই সড়কটি যদি তাদের অধিদপ্তরের অধীনে থাকে, তবে তারা একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারবেন।