সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মাদরাসার ৭২ হাজার টাকা গায়েব, অতঃপর তালাবদ্ধ ঘরে শিক্ষকের লাশ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ৫:৩৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় তালাবদ্ধ বাসা থেকে এক মাদরাসা শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে আটকে রাখা হয়েছিল তাকে। অন্যদিকে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলতেন ওই শিক্ষক।

নিহত শিক্ষকের নাম শিব্বির আহমেদ হাসান (৩৪)। তিনি হবিগঞ্জ জেলার কদুপাড়া এলাকার ছালেহ আহমদের ছেলে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার সদর আলুরঘাট রোড সংলগ্ন ‘নিশান প্লাজা’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলার ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিব্বির আহমেদ হাসানের স্ত্রী শিরিন আক্তারের ভাষ্যমতে, রোববার রাতে মাদরাসার হিসাব-নিকাশ নিয়ে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তার স্বামীর বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রীকে একটি কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা আটকে দিয়ে চলে যান। পরে রাত ২টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে স্বামী শিব্বির আহমেদ হাসানকে বিছানায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন শিরিন আক্তার। পরে পাশের একটি কক্ষে স্বামীকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তিনি।

জানা যায়, নিশান প্লাজার ওই ফ্ল্যাটেই ‘তালিমুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহ’ মাদরাসার কার্যক্রম চলত। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকতেন শিব্বির আহমেদ হাসান। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি মাদরাসার হিসাবরক্ষকের দায়িত্বেও ছিলেন।

মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন অবশ্য ভিন্ন কথা জানান। তিনি দাবি করেন, শিব্বির আহমেদ হাসান অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। মহিউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি মাসের ১২ তারিখের মধ্যে মাসিক ফি আদায় করা হয়। আদায় করা ৭২ হাজার টাকা দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলেছেন শিব্বির। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেই এই সংক্রান্ত প্রমাণ রয়েছে, যা আমরা পুলিশকে দিয়েছি। আমরা তাকে কোনো ধরনের চাপ দিইনি।

ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, পুলিশ ওই বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।