
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) আওতায় বিতরণ করা চালে পোকা ও দুর্গন্ধের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা বস্তায় চাল কম থাকায় সুবিধাভোগীদেরও ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে বলে ডিলাররা জানিয়েছেন।
সরকার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে গত কয়েক মাস ধরে সোনাইমুড়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ডিলারদের। রোববার উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার ডিলার নিজাম উদ্দিন চলতি মাসে সাড়ে ১০ মেট্রিক টন চাল তুলেছেন। তার ৩৫০ জন কার্ডধারী গ্রাহক রয়েছেন। নিজাম উদ্দিন জানান, গত মাসের মতো এবারও গুদাম থেকে খাবারের অযোগ্য চাল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ৫০ কেজি লেখা বস্তায় ২ থেকে ৫ কেজি চাল কম থাকছে। বাধ্য হয়ে ভালো-খারাপ মিশিয়ে গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে।
জয়াগ ইউনিয়নের ডিলার মীর হোসেনও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। মীর হোসেন জানান, গত মাসে ২৮৭ বস্তার মধ্যে ৫০ বস্তাই নষ্ট পেয়েছেন তিনি। গুদাম থেকে মেপে না আনলেও প্রতি বস্তাতেই চাল ৫০ কেজির কম থাকে বলে তার দাবি।
দেওটি ইউনিয়নের নান্দিয়াপাড়া বাজারের ডিলার দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ইতোমধ্যে দুই বস্তা চাল পুরোপুরি নষ্ট পেয়েছেন, যা তিনি সরিয়ে রেখেছেন। গুদাম থেকে কম পাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে গ্রাহকদের ৩০ কেজির বদলে ২৯ কেজি করে চাল দিচ্ছেন দেলোয়ার হোসেন।
নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণের তদারকিতে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। রোববার বাংলাবাজারের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সে পরিদর্শনের সময় একটি বস্তার সম্পূর্ণ চাল নষ্ট এবং কয়েকটি বস্তায় ওজন কম পান ফয়সাল মাহমুদ। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাবেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনাইমুড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে গুদামের অফিস সহকারী মোস্তফা ভুঁইয়া জানান, বছরে প্রায় সাত মাস চাল বিতরণ বন্ধ থাকে। বর্তমানে গুদামে থাকা চাল গত বছরের ২ আগস্ট এসেছে। মোস্তফা ভুঁইয়ার মতে, বাতাসের কারণে অনেক সময় ওপর ও নিচের বস্তার চালে সমস্যা দেখা দেয়।
পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সোনাইমুড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন নষ্ট চাল বা ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, গুদামে নষ্ট চাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবে বাতাসের আর্দ্রতার কারণে বাইরের দিকের সারির বস্তার চালের রং কিছুটা ফ্যাকাশে হতে পারে, কিন্তু ভেতরের সারির বস্তার চাল ভালো থাকে।
বস্তায় চাল কম থাকার বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, ডিলাররা প্রতিটি বস্তা মেপে নেওয়ার সুযোগ পান, ফলে ওজনে কম হওয়ার কথা নয়। এরপরও কোনো চাল খাওয়ার অযোগ্য হলে তা ফেরত দিলে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।