
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের একটি অংশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, তার মনে হয় এই যুদ্ধ শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিজের বক্তব্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধটি শেষ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
ইসলামাবাদে ফের আলোচনার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আছে আর মাত্র ছয় দিন। ২১ এপ্রিল এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শান্তিচুক্তি না হলে ফের সংঘাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক মোড় নেওয়ার আগে ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধের মধ্যেই কূটনৈতিক পথ খুঁজতে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার টেবিলে বসছে উভয় দেশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কিছু একটা ঘটতে পারে এবং তারা সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।
এমন এক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কথা বললেন, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন-অবরোধকৃত ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল
আলোচনার টেবিলে ফেরা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ নামে পরিচিত ২১ ঘণ্টার প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনা হলে এবারও মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাশাপাশি এই বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকতে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ থেকে উত্তরণে একটি কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই শীর্ষ তিন উপদেষ্টাকেই দিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সারা বিশ্বে এবং বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করা হচ্ছে।
এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই উল্লেখ করে আন্তোনিও গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, জোরালো সদিচ্ছা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে এবং যেকোনো যুদ্ধবিরতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির উন্নয়নে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা
অন্যদিকে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে যাচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধি দল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তাদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালালে লেবাননে হামলা শুরু করে তেল আবিব। এসবের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এই শান্তি আলোচনায় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। হিজবুল্লাহ এই আলোচনাকে ‘নিরর্থক’ আখ্যা দিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র দেখতে চাইলেও হিজবুল্লাহ ধারাবাহিকভাবে এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের মতে, এ ধরনের দাবি লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রাখার পথ খুলে দেয়।