সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার ঘটনায় সেই বাবাকে ধরে পুলিশে দিল জনতা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:০২ পূর্বাহ্ন


চা দিতে দেরি হওয়ায় মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দুই মাসের কন্যাশিশু সাপরিনা জান্নাত মাহিরাকে মাটিতে আছড়ে হত্যার ১৪ ঘণ্টা পর পাষণ্ড বাবা মো. ওসমান গণিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের আমান বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান ঘাতক বাবাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মো. ওসমান গণি আমান বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে আটক করেন এবং হাটহাজারী মডেল থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মো. ওসমান গণিকে থানায় নিয়ে যায়।

এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারিয়া মুরাদপুর গ্রামের ইব্রাহীম মেম্বারের বাড়িতে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পেশায় রংমিস্ত্রি মো. ওসমান গণি তার স্ত্রী সুমাইয়ার কাছে চা চেয়েছিলেন। স্ত্রী সুমাইয়ার চা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মো. ওসমান গণি তার কোল থেকে দুই মাসের শিশু সাপরিনা জান্নাত মাহিরাকে কেড়ে নিয়ে পরপর দুবার সজোরে মাটিতে আছড়ে ফেলেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়।

পরিবারের অন্য সদস্য এবং মো. ওসমান গণি ও তার ছোট ভাই মিলে গুরুতর আহত শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘাতক বাবা মো. ওসমান গণি পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ও হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে নিহত শিশু সাপরিনা জান্নাত মাহিরার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান জানান, নির্মম এই শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।