সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে মুক্তিপণে অপহৃত শিশু উদ্ধার

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৯:০২ অপরাহ্ন


খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ১২ বছর বয়সী শিশু মো. মাহমুদুর রহমান রাফিকে উদ্ধার করেছে তার পরিবার। রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দুই ধাপে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর শিশু মো. মাহমুদুর রহমান রাফিকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মো. মাহমুদুর রহমান রাফি মেরুং ইউনিয়নের ৫ নম্বর এলাকার নূরে মদিনা আল ইসলামিয়া মাদরাসার ছাত্র। তার বাসা দীঘিনালা উপজেলার কবাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ মিলনপুর এলাকায়। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে মো. মাহমুদুর রহমান রাফিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অজ্ঞাত দুটি মোবাইল নম্বর থেকে অপহৃত শিশুর বাবা মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে ফোন আসে। অপহরণকারীরা মো. মাহমুদুর রহমান রাফিকে আটকে রাখার কথা জানায় এবং দ্রুত টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পর রাত ২টার দিকে মো. মাহমুদুর রহমান রাফির বাবা মো. আনোয়ার হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। কিন্তু সে সময় থানায় দায়িত্বরত মোবাইল টিমের অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিক টাকা লেনদেন করতে নিষেধ করেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, অফিস সময় শুরু হলে সকাল ১০টায় এসে যেন জিডি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে মুক্তিপণ দেন। এরপর অপহরণকারীরা শিশু মো. মাহমুদুর রহমান রাফিকে ছেড়ে দেয়। উদ্ধারের পর শিশুটিকে নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে দায়িত্বরত আরেক অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব কেবল নাম ও ঠিকানা লিখে নিয়ে তাদের বাড়িতে চলে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, রাত ২টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় এসেছিল। সে সময় ঘটনার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদের সকালে থানায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী আরও নিশ্চিত করেন যে, ভুক্তভোগী পরিবার সকালে থানায় আসার পর ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য পুলিশের দুটি টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।