সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ায় অবৈধভাবে বালু তোলার গর্তে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, ৮ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৯:০৮ অপরাহ্ন


কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বনবিটের ছড়াখালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য তৈরি গর্তে আটকে পড়ে শামসুল আলম (৫০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বালু তোলার গর্তে তিনি আটকা পড়েন এবং প্রায় আট ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় নিহত শামসুল আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শ্রমিক শামসুল আলম চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুনবাগিচা এলাকার সাবেক হেডম্যান মৃত অলি আহমদের ছেলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নিহত শামসুল আলম ওই এলাকায় একটি বালু উত্তোলন পয়েন্টে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘ দিন ধরে খুটাখালী বনবিটের অধীন ফান্ডাছড়ি ও মুচ্ছিকাটা এলাকার ছড়াখাল থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন ওই এলাকার ফারুক, টুনু এবং সৈয়দের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ছড়াখালের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে সেখানে বালু উত্তোলনের কাজ করতে গিয়ে আগে থেকে সৃষ্ট গর্তে আটকে পড়েন শ্রমিক শামসুল আলম। একপর্যায়ে তার সহকর্মীরা শামসুল আলমকে গর্ত থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় দিন গড়িয়ে প্রায় আট ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শামসুল আলমের মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর থেকেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িত ফারুক, টুনু এবং সৈয়দসহ অন্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় লোকজন আরও জানান, শ্রমিক শামসুল আলমের মৃত্যুর ঘটনাস্থলেই ফুলছড়ি বনবিট এলাকার কবির হোসেনের অবৈধ আরও একটি বালুমহাল রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ বালু উত্তোলন পয়েন্ট থেকে ফুলছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন বনবিটের লোকজন মাসোহারা নেন। সে কারণে ফারুক, টুনু, সৈয়দ ও কবির হোসেনদের লুটেরা চক্র দীর্ঘ দিন ধরে সেখান থেকে বিনা বাধায় বালু উত্তোলন করে আসছে। বনবিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অভিযানে আসার আগেই স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তথ্য ফাঁস করে সতর্ক করে দেন বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওই এলাকার সরকারি বনাঞ্চল ধ্বংস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

খুটাখালী বনবিটের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহ জানান, রাতের আঁধারে ফান্ডাছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র এবং সেই বালু উত্তোলনের গর্তে আটকা পড়ে শামসুল আলম নামের একজন মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহ আরও জানান, ইতোমধ্যে বনবিট কর্মকর্তা ওই পয়েন্টের বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়ে মামলাও দিয়েছেন, তবুও বালু উত্তোলন থামেনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, বালু পয়েন্টে শ্রমিক শামসুল আলমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহত শামসুল আলমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই বিষয়ে তদন্তপূর্বক জড়িত ফারুক, টুনু, সৈয়দ ও কবির হোসেনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।