
মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন যখন কঠোর অবস্থানে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রায়পুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল হক নিজ ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করছেন। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার এমন কর্মকাণ্ডে এলাকাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
জানা গেছে, অভিযুক্ত আবদুল হক আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বারিস মাঝির বাড়ির মৃত সিদ্দিক আহমেদের ছেলে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ তাকে নিজের একটি কক্ষে বসে মাদক গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন একজন নেতার ঘরে মাদকের আসর বসলে তা যুবসমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
বিষয়টি নিয়ে আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির নেতা মিল্টন তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করে বলেন, আবদুল হক লোক হিসেবে ভালো হলেও তিনি যে ইয়াবায় আসক্ত, সেটি সত্য।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে পুরো ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেন। কিন্তু ভিডিওতে থাকা সুনির্দিষ্ট প্রমাণের কথা উল্লেখ করতেই তিনি ভোল পাল্টে ফেলেন। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, এটি তো তার নিজের ঘর।
পরক্ষণেই আবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেন, তিনি নিজেই এসবের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে সংবাদকর্মীর ওপর চড়াও হয়ে তিনি বলেন, আপনি কি আর কথা বলার জায়গা পান না? এই বলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ফোন কেটে দেন। এর আগে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেন।
আবদুল হক বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে এবং অনেকের সঙ্গেই তার ওঠাবসা। তিনি শহর থেকে ফিরছেন জানিয়ে কোথায় বসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যায়, সে প্রস্তাবও দেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম নিজ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এমপির এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেই দলের নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় মাদকের মূল উৎপাটন কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে।
এ বিষয়ে সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দিচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।