
শান্তিতে নোবেলজয়ী ও কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়েছে মিয়ানমার সরকার। সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সু চির আইনজীবী সংবাদমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগে ৮০ বছর বয়সী সু চি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে তার মিত্রদের দাবি, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
সু চির আইনজীবী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সাজার বাকি মেয়াদ তিনি গৃহবন্দি হিসেবে কাটাতে পারবেন কি না, তা এখনও পরিষ্কার করা হয়নি।
এদিকে, শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন। গত ছয় মাসে এ নিয়ে তিনবার এমন পদক্ষেপ নিল দেশটি। সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস এবং এপ্রিলে নববর্ষ উপলক্ষে মিয়ানমারে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন সাবেক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই জান্তা সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি। গত ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে অবাধ বা সুষ্ঠু বলে মনে করেন না।
প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সবাই এই সুবিধা পাবেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এটিকে গণআদেশ হিসেবে বিবেচনা করলে দণ্ডিত সবাই এই সুবিধা পাবেন বলে ধরে নেওয়া যায়। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ৩৮ জন কয়েদির মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হয়েছিল।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে, যার ফলে মিয়ানমার কার্যত গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নির্দেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের ব্যাপক হারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে ১৩০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যে কতজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বা প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।