
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি সালিশি বৈঠক চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় শফিউল আলম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামের সর্দারসহ একই পরিবারের আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের মধ্যম আমবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে নিহত শফিউল আলমের প্রতিবন্ধী ভাতিজা ফকির আহমদকে মারধর করে রক্তাক্ত করে একই এলাকার রিক্কু, রিফন ও রিজভী। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার জুমার নামাজের পর সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠক চলাকালে অভিযুক্ত রিক্কু, রিফন ও রিজভীসহ কয়েকজন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীদের কিল-ঘুষি ও আঘাতে শফিউল আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে মো. আরাফাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রিক্কু, রিফন ও রিজভী প্রতিদিন মাদক সেবন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে। তারাই বৃহস্পতিবার আমার প্রতিবন্ধী চাচাতো ভাইকে মারে এবং শুক্রবারের বৈঠকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে এলাকার মানুষকে ভয় দেখিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আমি আমার বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার জানান, হাসপাতালে আনা ওই বৃদ্ধের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।