
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা শুনে রওনা হলেও ইরানের বাহিনীর বাধায় ফের পারস্য উপসাগরেই ফিরে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’কে।
শুক্রবার রাতে নোঙর তুলে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় জাহাজটিকে ফিরে যাওয়ার এই নির্দেশনা দেয় ইরান।
শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান হোয়াটসঅ্যাপে জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে তারা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের বাহিনী তাদের হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ায় তারা আগের জায়গায়, অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফিরে যাচ্ছেন।
এর আগে রাতে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং রাত ৩টা নাগাদ এটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা শতাধিক জাহাজ নোঙর তুলে পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগোচ্ছে। তবে রাত পৌনে ১টার দিকে ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফিরে যাচ্ছে।
বিএসসির এই জাহাজটি গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনের কাজ করছিল এটি। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। কিন্তু সেবার অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ পার হওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে জাহাজটি। এই সার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়ার কথা। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি পায়নি তারা। এরপর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করে ছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার তৃতীয় দফায় হরমুজ পার হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হলো জাহাজটিকে।