
সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক ও নার্সসহ লোকবল সংকট এবং সীমিত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এক বছরে ৫৪ হাজার ৩৪ জন রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়ে দেশের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বীকৃতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জাতীয় সম্মেলনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন ডা. মো. মুজিবুর রহমান।
স্বাস্থ্য সেবার সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে মোট ৫৪ হাজার ৩৪ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪৮ জন রোগী জরুরি সেবা নিয়েছেন, যা একটি গ্রামীণ হাসপাতালের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশে প্রথম চালু হওয়া ‘ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার’ (ওসেক) ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি রোগীরা একই স্থানে দ্রুত নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রেফারেল সুবিধা পাচ্ছেন। সমন্বিত এই সেবাপদ্ধতির ফলে রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব কমেছে এবং সেবার মান দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে।
এছাড়া সেবার মান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, রোগী সন্তুষ্টি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং (এইচএসএস) স্কোরিংয়ে ২০২৫ সালে সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের শীর্ষ দশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকায় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে দেশসেরা হওয়াটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা এই অর্জন পেকুয়াবাসী ও সেবাগ্রহীতাদের উৎসর্গ করছি। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।
ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান ডা. মো. মুজিবুর রহমান।
একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যে অনাস্থা ছিল, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সেবার মানোন্নয়নের কারণে এখন মানুষ সরকারি হাসপাতালের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ডা. মো. মুজিবুর রহমান সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা নেওয়ার এবং নিরাপদ জীবন গড়ার আহ্বান জানান।