সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পালটে গেল দৃশ্যপট, ফের যুদ্ধের শঙ্কা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১:৪১ অপরাহ্ন


সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির কী নাটকীয় পরিবর্তন! গত শুক্রবার রাতেও মনে হচ্ছিল, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হয়তো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গিয়ে এখন উল্টো যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যেভাবে পালটে গেল দৃশ্যপট

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দেন, জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইরানকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০ শতাংশ কমে যায়।

কিন্তু এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আরাগচির সমালোচনা করে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম’ জানায়, তাঁর বক্তব্যে জাহাজ চলাচলের শর্ত নিয়ে অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। এরপরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চুক্তির শতভাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকবে। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় শুক্রবারের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অবরোধের কারণে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং কোনো জাহাজ প্রণালির কাছাকাছি গেলে তা ‘শত্রুকে সহযোগিতা করা’ হিসেবে গণ্য করে তাতে হামলা চালানো হবে।

সংঘাত নাকি সমঝোতা?

শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিজেদের শক্তির জানান দিতে ওমান উপকূল থেকে ২০ মাইল দূরের দুটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেনের দাবি, প্রথম হামলাটি হয়েছে ইরানের সশস্ত্র গানবোট থেকে।

এদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শত্রুদের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ উপহার দিতে ইরানের নৌবাহিনী প্রস্তুত। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তবে আলোচনার প্রস্তুতি ভালোভাবে এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান এবং ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলও নতুন মার্কিন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও চলমান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ এখনো পরস্পর থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না তা তিনি নিজেও জানেন না। মেয়াদ না বাড়ালে অবরোধ জারির পাশাপাশি পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি ও হোয়াইট হাউসে বৈঠক

ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে আপস করার মতো মেজাজে নেই। শনিবার দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মোহাম্মদ নাকদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ আবারও শুরু হয়, তবে তারা মে মাসে তৈরি সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবেন। তিনি আরও বলেন, তারা চাইলে তেল উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারেন, তবে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি না করতে এতদিন ধৈর্য ধরেছেন।

ইরানি সূত্রগুলো আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা আলোচনার আশা করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি। তবে পর্দার আড়ালে চরম উত্তেজনার লক্ষণ স্পষ্ট। শনিবার বিকেলে জরুরিভিত্তিতে হোয়াইট হাউসে গিয়ে বৈঠক করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সিআইএয়ের পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা।