সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রা: বাঁশখালীর ৫ যুবকের সন্ধানে স্বজনদের মানববন্ধন

মানবপাচারকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি
মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৭:১৯ অপরাহ্ন


সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাঁশখালীর পাঁচ যুবকের সন্ধান ও মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

রোববার বিকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের ফজল্লা কাটা এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। নিখোঁজদের স্বজনসহ শতাধিক গ্রামবাসী এতে অংশ নেন। এ সময় তারা নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য জসীম উদ্দিন ও আবদুল্লাহর বিচার দাবি করেন।

নিখোঁজ পাঁচ যুবক হলেন পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের নজির আহমদের ছেলে মো. রুবেল (৩৩), আবদুর রহমানের ছেলে মো. ওসমান গণী (১৮), জাফর আলমের ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন (২৫), তৈয়ম দুলালের ছেলে আজিজ (২৮) এবং মখছুদ আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক (২৩)।

স্থানীয়রা জানান, একই গ্রামের মো. আপনের ছেলে আবদুল্লাহ এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জসীম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। ভালো চাকরির আশায় তাদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক বেকার যুবক নিঃস্ব হয়েছেন। নিখোঁজ ওসমান গণী মাস্টার নজির আহমদ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। তাঁকেও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে জসীম উদ্দিন মালয়েশিয়ায় নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান।

মানববন্ধনে নিখোঁজ জামাল উদ্দিনের মা খতিজা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার বাবা মকছুদ আলম অভিযোগ করেন, দালালরা প্রথমে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে। পরে থাইল্যান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। এরপর মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে আবারও টাকা নেয়। পরে তারা জানতে পারেন, ট্রলারটি সাগরে ডুবে গেছে। নিখোঁজের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও ছেলের কোনো সন্ধান পাননি বলে জানান তিনি।

নিখোঁজ অটোরিকশাচালক মো. বেলালের স্ত্রী তাসমিনা আক্তার বলেন, ১ এপ্রিল লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তার স্বামীকে দালাল জসীম টেকনাফে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আবদুল্লাহ তাকে গ্রহণ করে। দুই সন্তান নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।

পেশায় জেলে আজিজুর রহমানের স্ত্রী তছলিমা বেগম মানববন্ধনে এসে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আজিজের বড় ভাই আনিস বলেন, তার ভাই টেকনাফ থেকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে আবদুল্লাহ আর জসীম তাকে নিয়ে এসেছে এবং বোটে তুলে দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চলে গেছে।

কোস্ট গার্ড ও উদ্ধারপ্রাপ্তদের বরাতে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফ ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে গভীর সমুদ্রে থাকা একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। নারী-শিশুসহ প্রায় ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কয়েকদিন পর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারটি ডুবে যায়।

বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার পর তারা পানির বোতল ও তেলের ট্যাংকি ধরে দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় নয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’। পরে তাদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’তে স্থানান্তর করা হয়। তবে বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে গভীর শঙ্কা রয়েছে।