
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বনের জমিতে অবৈধ পাকাবাড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
একুশে পত্রিকার সংবাদ ও তদন্ত কমিটি গঠন
গত ১ এপ্রিল একুশে পত্রিকায় ‘মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে পাকাবাড়ি নির্মাণের হিড়িক, বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে আসার পর কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন স্বপ্রণোদিত হয়ে ২ এপ্রিল ফুলছড়ি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শীতল পালকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করেন। সরেজমিন তদন্ত শেষে এসিএফ শীতল পাল গত সপ্তাহে ডিএফও মো. মারুফ হোসেনের কাছে তাঁর প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসিএফ শীতল পাল জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে বিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমান কর্তৃক গোপনে ঘুষ লেনদেন করে মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের জমিতে অবৈধ স্থাপনা (পাকা-আধাপাকা বসতি) তৈরির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গত সপ্তাহে ডিএফও মো. মারুফ হোসেন এক অফিস আদেশের মাধ্যমে মুমিনুর রহমানকে মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান বনবিট থেকে প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে অদক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে বনবিট কর্মকর্তার পদ থেকে ‘পদাবনতি’ দেওয়া হয়েছে।
দখলবাজদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা
ফুলছড়ি রেঞ্জ অফিসার মো. কুদ্দুসুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বনের জমিতে অবৈধ স্থাপনা তৈরির সঙ্গে জড়িত দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ১২টি মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বন বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সরেজমিন পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের অভিযোগ
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৪ এপ্রিল মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের বনাঞ্চল এলাকা পরিদর্শন করেন এসিএফ শীতল পাল। পরিদর্শনকালে বনের ভেতরের বিভিন্ন পয়েন্টে পাহাড়ের ঢাল কেটে সমতল করে এবং গাছপালা উজাড় করে অবৈধভাবে পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী লোকজনও স্বীকার করেছেন যে, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বনবিট কর্মকর্তা তাঁদের এই সুযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, নতুন বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমান যোগদানের পর হঠাৎ করেই জাতীয় উদ্যানের সুবিশাল মাদার গর্জন গাছ সমৃদ্ধ সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল ও স্থাপনা তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বনবিটের অধীনস্থ এলাকাভিত্তিক নিয়োজিত হেডম্যান ও ভিলেজারদের মাধ্যমে কৌশলে টাকা নিয়ে বনকর্মীরা এই অবৈধ বসতি নির্মাণের সুযোগ করে দেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২টি পাকা ও আধাপাকা বসতঘর নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে।