
‘চকরিয়ায় সরকারি আশ্রয়ণের পাহাড় কেটে মাটি লুট, প্লট বাণিজ্যের হিড়িক’ শিরোনামে গত ১৫ এপ্রিল একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের ভিত্তিতে অবশেষে কঠোর প্রশাসনিক অ্যাকশন শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে তৈরি করা একাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব।
অভিযানকালে হারবাং ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদার মোহাম্মদ আবুল মনছুর, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ও ভূমি অফিসের নাজির মনির হোসেন, চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব জানান, গত রমজান মাসের আগে স্থানীয় কতিপয় দখলবাজ চক্র উত্তর হারবাং সরকারি আশ্রয়নের পাহাড় কেটে রাতের আঁধারে মাটি লুট করে। পরে ওই জায়গা সমতল করে তারা প্লট বানিয়ে কৌশলে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনিসহ ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। তবে সে সময় চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার সরকারি কাজে দেশের বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি একুশে পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও কর্মস্থলে ফিরে ঘটনাস্থলে দ্রুত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় জড়িত চক্রের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, সরকারি সেমিনার শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হন। এরপর দ্রুত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, পাহাড় কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে খুব শিগগিরই প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানিয়েছেন, হারবাংয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের পাহাড় কেটে মাটি লুটের ঘটনায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অধীন হারবাং মৌজার বিএস ১৬৫১৩ দাগের আওতাধীন এই পাহাড় কেটে সমতল করা হয়। স্থানীয় দাপটশালী বালুদস্যু নাজেম উদ্দিন, আবদুল খালেক ও জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট শক্তিশালী এক্সকাভেটর দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরবর্তীতে তারা সমতল করা জায়গায় প্লট তৈরি করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে।
এর আগে উপজেলা প্রশাসন ওই পাহাড়ের পাদদেশে অন্তত ১০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা পাহাড় কেটে সাবাড় করে দেওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সেখানে ভয়াবহ পাহাড় ধসের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হারবাং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. আবুল মনছুর জানান, পাহাড় কাটার খবর পেয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হলেও জড়িতরা মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত তৎপর থাকায় পাহাড়টি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িত নাজেম উদ্দিন, আবদুল খালেক ও জসীম উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।