
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং সাবেক মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছান তিনি। কবর জিয়ারত শেষে মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁদের কাছে দোয়া চান আসিফ মাহমুদ।
পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাইয়ের ক্রান্তিকালে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও রাজপথের সাহসী উপস্থিতির কারণেই আজ তাঁরা বেঁচে আছেন এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতে পারছেন। তৎকালীন শক্তিশালী স্বৈরশাসককে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে এই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং শাপলা চত্বরসহ অতীতের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও ইসলামি আন্দোলনে তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি সমগ্র দেশবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আগামী দিনেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং শহীদ ওসমান হাদীসহ সব শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিতে লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সামনের দিনগুলোতেও সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ মাহমুদ জানান, দলের পক্ষ থেকে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। মূলত সেই কারণেই দোয়া নিতে তাঁর এই সফর। জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, দলটিতে নতুন অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন এবং এটিকে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে তাঁরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে সোমবার বিকালে ফটিকছড়ির জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগরী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেখানে তাঁর সঙ্গে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় জানান, হাটহাজারী মাদ্রাসায় আসার আগে ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।