সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে থমথমে পরিস্থিতি, সতর্ক প্রশাসন

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ৩:৩১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে নতুন করে সহিংসতা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে ঘিরে পুরো এলাকা এখনো থমথমে থাকলেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাময়িকভাবে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগে সংঘর্ষের কারণ উদ্ঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে বুধবার থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর জসীম উদ্দিন জানান, কে কার বিরুদ্ধে মামলা করবে এটি তাদের রাজনৈতিক বিষয়। তাদের সিনিয়র নেতারা আছেন, তারা তাদের মতো করে বিষয়টি চিন্তা করবেন। এতে কলেজ প্রশাসনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

শনিবার থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রফেসর জসীম উদ্দিন আরও জানান, পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য তাদের ‘ভিজিল্যান্স টিম’ থাকবে, যাতে বহিরাগত কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে আগামী রোববার থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষকরা সবাই মিলে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন বলেও প্রফেসর জসীম উদ্দিন নিশ্চিত করেন।

সংঘর্ষের পর থেকেই ক্যাম্পাসের ভেতর ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবেশপথগুলোতে কড়াকড়ি নজরদারির পাশাপাশি সন্দেহজনক চলাচলের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোহাম্মদ মাহফুজ হাসান সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি সিএমপি কমিশনার সরাসরি তদারকি করছেন। যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গত সোমবার দেয়ালে লেখা ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার শুরু হলেও বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, পরে ব্যানার ছেঁড়া এবং অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তা দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।