সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বিমানবাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান থাকলে রোহিঙ্গা সংকট হতো না: সেনাপ্রধান

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ৬:৪৪ অপরাহ্ন


কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমানবাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না বলে মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সামরিক সরঞ্জামের অপর্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ এড়ানোর জন্যও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এসব কথা বলেন।

এই কোর্সে পাঁচজন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং করপোরেট প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, তিনি সবাইকে সামরিক বিষয়াবলীতে—সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর—আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করেন। কারণ এগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার অধিকার সবার রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, দেশ ব্যাপকভাবে আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং সমুদ্রপথের যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নৌবাহিনীকে শক্তিশালী না করলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকবে না।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তাদের পর্যাপ্ত ওপিভি নেই, ফলে ছোট করভেট দিয়ে সাগরে টহল দিতে হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী নয়। সমুদ্রপথ এবং জাহাজগুলোর সুরক্ষায় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বিমানবাহিনীর কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, দীর্ঘ সময় ধরে মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয় করা হয়নি। কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম এলাকায় পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলে হয়তো রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টিই হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারে সামরিক অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর আরও কয়েক দফায় আসা রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থান করছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আজ এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে হয়তো ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্যই প্রস্তুতির প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে পররাষ্ট্রনীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও জানান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো সংস্থা এগোতে পারে না এবং মিলিটারি সবসময় জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে।

বক্তব্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তেল শোধনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি না হওয়ায় তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারি মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। বাকি সব জ্বালানি চড়া দামে আমদানি করতে হয়। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সস্তা হওয়া সত্ত্বেও রিফাইনারির অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান বলেন, কোর্স চলাকালে ফেলোদের সক্রিয়, চিন্তাশীল ও শ্রদ্ধাশীল অংশগ্রহণ কৌশলগত বোঝাপড়া সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।