সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

টোব্যাকো কোম্পানির সিন্ডিকেটে দিশেহারা চকরিয়ার ১২ হাজার তামাক চাষি, সড়কে বিক্ষোভ

এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার তিন ইউনিয়নের অন্তত ১২ হাজার তামাক চাষি টোব্যাকো কোম্পানির সিন্ডিকেটের প্রতারণার কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌসুম শেষে উৎপাদিত তামাক চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য মূল্যে কেনার কথা থাকলেও, টোব্যাকো কোম্পানিগুলো তামাকের গ্রেড ভালো নেই—এমন অজুহাতে চাষিদের জিম্মি করে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদিত তামাক পাতা যথাসময়ে কোম্পানিগুলোর কাছে হস্তান্তর করতে না পেরে, নিজেদের ঘরে বা গুদামে রাখতে গিয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিন পার করছেন চাষিরা। এই প্রতারণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে চকরিয়া-মানিকপুর সড়কে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ তামাক চাষি।

সড়কে তামাক চাষিদের বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের তরুণ রাজনীতিবিদ সাইফুল কবির চৌধুরী। সাইফুল কবির চৌধুরী এ সময় ভুক্তভোগী তামাক চাষিদের অভিযোগ শোনেন এবং এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে একটি টেকসই সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সাইফুল কবির চৌধুরী জানান, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের কমপক্ষে ১২ হাজার কৃষক দুই যুগের বেশি সময় ধরে তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত। বেশিরভাগ কৃষক আকিজ টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে আগে থেকে মূল্য নির্ধারণ করে তামাক চাষ করেন। কিন্তু এ বছর তামাক কেনার মুহূর্তে এসে কোম্পানির স্থানীয় লোকজন কৌশলে সিন্ডিকেট করে কম দামে তামাক কেনার পাঁয়তারা করছে।

সাইফুল কবির চৌধুরী আরও জানান, চুল্লিতে পোড়ানো শেষে তামাকের বান্ডিলগুলো বাইন সেন্টারে রাখার কথা থাকলেও, নানা অজুহাতে তারা তামাক নিচ্ছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে বা ঘরে তামাক রাখতে বাধ্য হওয়ায় পাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বিক্ষোভে উপস্থিত একাধিক তামাক চাষি জানান, দুই যুগের বেশি সময় ধরে তারা তামাক চাষ করে এলেও এ বছরের মতো কষ্ট আগে কখনো পাননি। জমি বর্গা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি এ বছর দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু এখন তামাকের গ্রেড ভালো নেই—এমন অজুহাত দেখিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা কম দামে তামাক বিক্রিতে তাদের বাধ্য করতে চাইছেন। ভুক্তভোগী চাষিরা চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে চুক্তির ভিত্তিতে ন্যায্য মূল্য আদায়ের দাবি জানান।

কাকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ জানান, সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ৮০ ভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল।

মাহমুদুর রহমান মাহমুদ আরও বলেন, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও কৃষকরা এই পরিবেশবিধ্বংসী চাষ করেন পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নে। তামাক চাষি পরিবারগুলোর এই স্বপ্নের পথে যাতে টোব্যাকো কোম্পানিগুলো প্রতারণার ফাঁদ বসাতে না পারে, সে জন্য মাহমুদুর রহমান মাহমুদ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর প্রতারণার শিকার হয়ে তামাক চাষিদের সড়কে বিক্ষোভ করার বিষয়টি আগে কেউ তাকে জানায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তাদের ডেকে এনে বিষয়টি সুরাহার মাধ্যমে চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।