সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ইপিজেডে চাকমা তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নারীসহ চারজন গ্রেপ্তার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২:৫১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকায় এক চাকমা তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে নারীসহ চারজনকে আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই তরুণী সিইপিজেড এম এস সুমন্তরা-১ গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে ইপিজেডের ব্যারিস্টার কলেজ এলাকার আনোয়ারা ম্যানশনে অন্যান্য চাকমা নারী শ্রমিকের সঙ্গে ভাড়ায় বসবাস করতেন।

ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, গত ১০ এপ্রিল ওই তরুণীর বন্ধু অংশুইচিং মারমা চিকিৎসার জন্য ফেনী থেকে চট্টগ্রামে এসে তার বাসায় ওঠেন। এ বিষয়ে একই বাসায় বসবাসকারী ওকরাইজা মারমা এলাকার পরিচিত ওথাইইনু মারমাকে জানালে সে, আপ্রুমং মারমা ও থুয়াইচিং মারমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। একপর্যায়ে থুয়াইচিং মারমা পূর্বপরিচিত ওকরাইজা মারমার সহায়তায় ১৯ এপ্রিল রাত পৌনে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী চাকমা তরুণীকে ব্যারিস্টার কলেজ রোডের সিরাজ বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় আপ্রুমং মারমার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।

সেখানে উচাই মারমা ও নুংথুই প্রু মারমার ছেলে আপ্রুমং মারমা, উহল্লা প্রু মারমা ও সুইথুই মারমার ছেলে থুয়াইচিং মারমা এবং উহল্লা প্রু মারমা ও মৃত মাসুইনু মারমার ছেলে ওথাইইনু মারমা ওই চাকমা তরুণীকে বিভিন্ন আপত্তিকর কথা বলে। তারা ওই তরুণীর ছেলে বন্ধু অংশুইচিং মারমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে নিজেদের সঙ্গেও অনৈতিক কাজ করার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে আপ্রুমং মারমা, থুয়াইচিং মারমা এবং ওথাইইনু মারমা ওই চাকমা তরুণীকে জোরপূর্বক পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং বাসা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভুক্তভোগী তরুণী ইপিজেড থানায় হাজির হয়ে অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) মাজহারুল ইসলাম এবং অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই মো. ইয়াছিন, এসআই মোহাম্মদ শাহীন মিয়া এবং এএসআই আব্দুর রহমান পাটোয়ারী পুলিশ ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের এই দল ব্যারিস্টার কলেজ এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসা থেকে ঘটনায় জড়িত আপ্রুমং মারমা, থুয়াইচিং মারমা, ওথাইইনু মারমা ও ওকরাইজা মারমাকে গ্রেপ্তার করে।

অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিকুর রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিধি মোতাবেক তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।