সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

৮ কোটি টাকায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম মিনি স্টেডিয়াম পাচ্ছে পটিয়া

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, হতাশা আর নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বপ্ন ডানা মেলতে শুরু করেছে। একসময় যে স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ লাল ফিতায় বন্দি হয়ে ঝিমিয়ে পড়েছিল, জায়গার বন্দোবস্ত না হওয়ায় প্রথমবার প্রকল্প ফেরত যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল, সেই আক্ষেপ এখন শুধুই অতীত। সব বাধা পেরিয়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে পটিয়া মিনি স্টেডিয়াম। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে পটিয়ার জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকায় শুরু হয়েছে নির্মাণযজ্ঞ। ধুলোমাখা ফসলি জমিতে এখন স্বপ্নের ভিত গড়ছেন শ্রমিকরা।

পটিয়ার ক্রীড়ামোদীদের জন্য এতদিন খেলাধুলার একমাত্র ভরসা ছিল পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময় মেলা, পশুর হাটবাজার কিংবা বর্ষার জলাবদ্ধতার কারণে সেই মাঠও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকত। বিকল্প কোনো মাঠ না থাকায় বছরের অর্ধেকটা সময়ই খেলোয়াড়দের কাটাতে হতো চরম অলসতায়। এই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটাতেই ২০১৬ সালে তৎকালীন সরকার পটিয়ায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। তিনটি স্থান পরিদর্শনের পর শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে জলুয়ার দীঘিপাড় এলাকায় প্রায় ৪ একর জায়গা চূড়ান্ত করা হয় এবং বছর খানেক আগে জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়।

তবে অর্থ ছাড় না হওয়ায় দীর্ঘদিন থমকে ছিল প্রকল্পের চাকা। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর আটকে থাকা এই প্রকল্পগুলো নতুন করে সচল করেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের হস্তক্ষেপে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে পটিয়াবাসীর এই স্বপ্ন।

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্টেডিয়াম নির্মাণের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় ফসলি জমিতে কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুমের আগে বাউন্ডারি নির্মাণ শেষ না হলে জলাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পের কাজ অন্তত ছয় মাস পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার ম্যানেজার নুর নবী জানান, গত ২০ এপ্রিল তারা জায়গা বুঝে পেয়েছেন। প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার বিষয়ে নুর নবী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খুব শিগগিরই পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন বলেও নুর নবী নিশ্চিত করেছেন।

৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই মিনি স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে খেলার উপযোগী চমৎকার মাঠ, গ্যালারিসহ প্যাভিলিয়ন ভবন, ড্রেসিং রুম, ওয়াশরুম, ক্রীড়া সংস্থার অফিস এবং রেফারিদের চেঞ্জিং রুম। তবে পূর্বের প্রস্তাবনায় থাকা জিমনেসিয়াম, ইনডোর সুবিধা এবং চারদিকজুড়ে বিশাল গ্যালারি এই বর্তমান প্রকল্পে রাখা হয়নি।

এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্টেডিয়ামটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দীন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে এই মিনি স্টেডিয়ামটিকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেও এটি করা সম্ভব বলে মনে করেন ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দীন। এ বিষয়ে তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম ও সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

পটিয়া যুবনিশান ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মো. শাহীন আল রহমান নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের ফলে পটিয়ায় খেলাধুলার নতুন দুয়ার খুলবে। আগে বছরের অর্ধেক সময় অলস থাকতে হলেও এখন সারা বছর খেলাধুলা চলবে। তিনিও এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়ার জোর দাবি জানান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই প্রকল্প নিয়ে রয়েছে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, খেলোয়াড় বা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কোনো দাবি উঠলে ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে তা মন্ত্রণালয়ে জানানো সম্ভব। মিনি স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি নির্মিত হলে পটিয়ার খেলাধুলা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।