
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখল এবং একটি পরিবারের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সোমবার উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. আবুল হোসেন। তিনি উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের মৃত কোব্বাদ আলীর ছেলে।
মো. আবুল হোসেন বলেন, তিনি একজন হতদরিদ্র কৃষক। ভূমিহীন কোটায় ১৯৯৯-২০০০ সালে সরকার তাকে স্থানীয় মৌজা লট-৪৪ নেপচুন এলাকায় এক একর জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেয়। পরবর্তীতে যা ১৪ নম্বর সৃজিত বিএস খতিয়ান মূলে তার এবং তার স্ত্রীর নামে প্রচার হয়।
তার অভিযোগ, ওই জমির সব কাগজপত্র ও রেকর্ড ঠিক থাকার পরও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক নারায়ণহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম তালুকদার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেটি জবরদখলের পাঁয়তারা করছেন।
আবুল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মো. ইব্রাহিম তালুকদার প্রভাবশালী নেতা ও চেয়ারম্যান হওয়ায় তিনি এতদিন কোথাও কোনো বিচার পাননি। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। গত ৫ আগস্টের পর ওই নেতা পালিয়ে গেলেও বর্তমানে মাঝে মাঝে গোপনে এলাকায় এসে পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং তার অনুসারীদের দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে রোপণ করা ধান কাটতে বাধা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এই কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ভবিষ্যতে জমিতে গেলে তাকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। নারায়ণহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তিনবারের সভাপতি ইব্রাহিম এত অন্যায় করার পরও কীভাবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান আবুল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং স্বজন মো. গোলাম আলীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম তালুকদার।
তিনি জানান, একসময় তিনি ইস্পাহানির মালিকানাধীন নেপচুন চা-বাগানের আইনি পরামর্শক ছিলেন। সে সময় বাগানের কিছু জায়গা নিয়ে বিরোধ থাকায় তিনি সেগুলো দেখভাল করতেন। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বে নেই, তাই সেখানে তার কোনো স্বার্থও নেই। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি সম্পূর্ণ অবান্তর বলে দাবি করেন তিনি।