সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ায় বাসের সিটের নিচে ৩৪ হাজার ইয়াবা, চালকসহ গ্রেপ্তার ২

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:৪৩ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৩৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাসটির চালকও রয়েছেন, যারা সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বাজার বাস স্টেশন এলাকায় ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ নামের ওই বাসে এই অভিযান চালানো হয়। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার হোসেনপুর এলাকার মৃত হযরত হায়দার আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৫৮) এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার শিকদার বিল এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে রবিউল হোসেন (২৬)। এদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ ওই বাসের চালক।

অভিযানের বিবরণ দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে পাচারকারীরা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাবের একটি দল খুটাখালী এলাকায় অবস্থান নেয়। আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি সেখানে পৌঁছালে তল্লাশি চালানো হয়। এক পর্যায়ে বাসের এফ-১ সিরিয়ালের সিটের নিচে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৩৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই আবুল কালাম আজাদ ও রবিউল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীবাহী বাসের আড়ালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার বড় চালান পাচারের কথা স্বীকার করেছেন। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিদের চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবার ঘটনায় র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম আজাদ ও রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে দুই আসামিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।