সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সোনালি স্বপ্নের মাঠ

এস এম আক্কাছ | প্রকাশিতঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন


ভোরের আলো ফোটার আগেই কাস্তে হাতে মাঠে নামেন আবদুল আজিজ। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আজিমনগর গ্রামের এই কৃষকের তিন কানি জমি এখন সোনায় মোড়া। সবুজ থেকে ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে ওঠা ধানের শিষগুলো যেন তাঁর বুকভরা আশার প্রতিচ্ছবি। কড়া রোদের তাপ গায়ে মেখেও থামছেন না তিনি— কারণ এই ফসলের পেছনে আছে সারা মৌসুমের পরিশ্রম, স্বপ্ন আর অপেক্ষা।

শুধু আজিমনগর নয়, চলতি রবি মৌসুমে ফটিকছড়ি উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের মাঠেই একই ছবি। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর এখন সোনালি ধানের সমারোহে ভরপুর। কোথাও চলছে কাটার তোড়জোড়, কোথাও মাড়াইয়ের শব্দে মুখর গ্রামের উঠোন। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ মৌসুমে মোট ১০ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে— আর সেই জমি থেকে প্রায় ৪২ হাজার ৭০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের প্রত্যাশা নিয়ে বসে আছে কৃষি বিভাগ।

তবে এই সাফল্যের পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। বারৈয়ারহাট গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ এনাম জানান, মৌসুমের গোড়ার দিকে বৃষ্টির দেখা মেলেনি, খরার আশঙ্কায় মন ভার হয়ে গিয়েছিল তাঁদের। কিন্তু ঠিক যখন দরকার, তখনই আকাশ ভেঙে নামল বৃষ্টি— আর সেই বৃষ্টিই যেন নতুন প্রাণ ঢেলে দিল ধানের শরীরে। প্রকৃতির এই অনুকম্পাই শেষ পর্যন্ত মাঠের চেহারা বদলে দিয়েছে।

প্রকৃতির পাশাপাশি কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে কৃষি বিভাগও। বীজ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক, সেচ — কোথাও ঘাটতি রাখা হয়নি বলে জানান আবদুল আজিজ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে সময়মতো পরামর্শ। ধান পুরোপুরি ঘরে না উঠা পর্যন্ত আবহাওয়া যদি সহায় থাকে, তাহলে এ মৌসুমটি হবে স্মরণীয়— এমনটাই আশা তাঁর।

এখন শুধু অপেক্ষা। মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালি শিষ, আর প্রতিটি শিষের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে একেকজন কৃষকের কয়েক মাসের হিসাব। আবদুল আজিজের মতো হাজারো কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর এই লড়াই শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না— সেই উত্তর দেবে আগামী কয়েকটি দিন।