সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

১৫ মে ফেরা হলো না, সৌদিতে নিভল বাবুর স্বপ্ন

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬:১৬ অপরাহ্ন


ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ কেটে দিন গুনছিল পরিবারটি। আগামী ১৫ মে দীর্ঘ সাত বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার কথা ছিল তৌহিদুল ইসলাম বাবুর। দেশে ফিরলেই বাজবে বিয়ের সানাই, নতুন জীবন শুরু করবেন—এমন রঙিন স্বপ্নে বিভোর ছিলেন এই যুবক ও তার স্বজনরা। কিন্তু একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা নিমেষেই সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল। সৌদি আরবের জেদ্দায় কর্মস্থলে দেয়াল ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বাবুর। দেশে ফেরার বদলে এখন তার নিথর দেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার।

নিহত তৌহিদুল ইসলাম বাবু চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামের বাসিন্দা। মাত্র সাত মাস আগে বাবা আবু তৈয়বকে হারিয়েছে পরিবারটি। সেই শোকের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার ছেলের মৃত্যু সংবাদে পুরো পরিবার যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

প্রবাসীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবু জেদ্দা শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় (সৌদি সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়) কাজ চলাকালীন হঠাৎ একটি দেয়াল তার শরীরের ওপর ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

নিহতের ভাই জাহেদ হোসেন বাবলু কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের চাচা ও মামা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

জাহেদ হোসেন বাবলু আরও জানান, আগামী ১৫ মে বড় ভাই বাবুর দেশে ফেরার কথা ছিল। সাত বছর ধরে প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনির পর এবার দেশে ফিরে তার বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। কিন্তু মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পরিবারের সব আনন্দ ও স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে গেছে। সাত মাস আগে বাবা আবু তৈয়বকে হারানোর পর এবার ভাই বাবুকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। বাবুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান জাহেদ হোসেন বাবলু।

পটিয়া হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন। শফিকুল আলম জানান, তৌহিদুল ইসলাম বাবুর বাবা আবু তৈয়ব মাত্র সাত মাস আগে মারা গেছেন। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা আবু তৈয়বকে হারানোর পর এবার ছেলে বাবুকে হারিয়ে পরিবারটি একেবারে বাকরুদ্ধ ও শোকে পাথর হয়ে গেছে। পুরো চরকানাই গ্রামে এখন কেবলই শোকের মাতম চলছে।