সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়ায় বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ২ মে ২০২৬ | ১১:০৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভায় বিশ্বব্যাংক ও সরকারি অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদারককারী কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে পানি রেখেই ড্রেনের ঢালাই দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

‘রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের’ (আরইউটিডিপি) আওতায় পটিয়া পৌরসভার ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৯টি আরসিসি সড়ক, আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেন ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজ চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার বিকালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন ঢালাইয়ের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো পৌর কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে ঢালাই দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অফিস বন্ধের দিন সুযোগ নিয়ে এ কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর আগেও রাতের আঁধারে ঢালাইয়ের কাজ করায় স্থানীয় মামুনুর রশিদ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

পৌরসদরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছন্দা মার্কেট থেকে ওয়ার্ডের শেষ অংশ পর্যন্ত দুটি কালভার্ট নির্মাণের কথা রয়েছে প্রকল্পে। একটির কাজ শেষ হলেও অন্যটি শুরু হয়নি। পুরোনো কালভার্ট ভেঙে নতুনটি না হওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইটি এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মমতাজ অ্যান্ড সন্স’-এর বিরুদ্ধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগে বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝখানে রেখে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল, যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মমতাজ অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ না হলেও তার প্রতিনিধি মো. জসিম বলেন, কাজের গুণগত মান বজায় রেখেই প্রকল্পের কাজ চলছে।

পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, “কাজের গুণগত মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পৌরসভার প্রতিনিধি থাকার কথা, হয়তো কোনো কারণে উপস্থিত ছিলেন না।”

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, “পৌরসভার প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড্রেন নির্মাণে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”