সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আনোয়ারায় ধর্ষণের শিকার সেই ছাত্রীর পক্ষে দাঁড়াল মাদ্রাসা

ক্ষমতার দাপটের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার কলম— “অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়”
আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৩ মে ২০২৬ | ৬:১৩ অপরাহ্ন


আনোয়ারার হাড়িয়া পাড়ায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় যখন প্রভাবশালীরা আসামিদের আড়াল করতে তৎপর, যখন মামলা নিতে চার দিন লেগেছে, যখন অভিযুক্তরা এখনও পলাতক— ঠিক সেই মুহূর্তে ভুক্তভোগী কিশোরীর পাশে দাঁড়াল তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

রায়পুর গাউছিয়া হাশেমিয়া দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. আবুল বশর সিরাজী স্বাক্ষরিত অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে— একটি নিষ্পাপ শিশুর উপর এমন জঘন্য অপরাধ সমগ্র সমাজ ও মানবতার জন্য লজ্জাজনক।

বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালনা পর্ষদ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐকাবদ্ধভাবে সোচ্চার আছেন এবং থাকবেন।

বিবৃতির শেষ লাইনটি যেন পুরো এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে— “অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়— ন্যায়বিচার চাই।”

প্রেক্ষাপট: প্রভাবের ছায়ায় বিচারের লড়াই

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় প্রধান আসামি আবু তাহেরের বড় ভাই গাজী মো. নাছির উদ্দীন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব পদে রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

এমনকি একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের আগের দিন নাছির উদ্দীন নিজে আনোয়ারা থানায় গিয়েছিলেন— যদিও নাছির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে জনরোষের মুখে তিনি ভাইয়ের বিচার দাবি করেন।

এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার এই আনুষ্ঠানিক অবস্থান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন তার নিজের ছাত্রীর পাশে দাঁড়ায়, তখন সেটি কেবল একটি বিবৃতি নয়— এটি একটি নৈতিক অবস্থান। যে সমাজে প্রভাবশালীরা অপরাধীকে আড়াল করতে তৎপর, সেখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই সাহসী উচ্চারণ ভুক্তভোগী পরিবারকে যেমন মনোবল দেয়, তেমনি প্রশাসনের উপরেও নৈতিক চাপ তৈরি করে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই বিবৃতি প্রমাণ করে— ক্ষমতার দাপটের বিরুদ্ধে বিবেকের কণ্ঠস্বর এখনও থামেনি।

এখনও পলাতক আসামিরা

মামলা দায়েরের পরও চারজন আসামির কেউই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি। পুলিশ বলছে, অভিযান চলছে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, উদ্বেগ তত বাড়ছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— প্রভাবশালীদের ছায়ায় কি শেষ পর্যন্ত পার পেয়ে যাবে অভিযুক্তরা?

মাদ্রাসার বিবৃতির ভাষায় উত্তর খোঁজা যাক— “অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়।”

এই দাবি এখন কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, গোটা রায়পুর ইউনিয়নের।