সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

‘স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া জবাবদিহিমূলক শাসন সম্ভব নয়’

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩ মে ২০২৬ | ৬:৩৮ অপরাহ্ন


বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের আয়োজন করেছে ইউনেসকো ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রোববার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারের মেঘমালা কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “জনআস্থা পুনর্গঠন: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা।”

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যম পরিবেশ অপরিহার্য। পেশাদার সাংবাদিকতা জোরদার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

স্বাগত বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বলেন, “বর্তমান তথ্যপ্রবাহের জটিল বাস্তবতায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি পাওলা কাস্ত্রো নিডারস্টাম।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ টেলিভিশন সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্টস সেন্টারের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ।

আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারকে গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জনআস্থা পুনর্গঠনে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা জোরদার, পেশাগত মানোন্নয়ন, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ঘোষিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রতি বছর ৩ মে পালন করা হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের অবদান স্মরণ করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য।