
চট্টগ্রামের পটিয়ায় খাদ্যজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার দুপুরে পটিয়া জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের কৃষি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অবস্থিত এই কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম এবং ভোক্তা অধিকার বিভাগের কর্মকর্তারা এদিন ওই ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শন শেষে কারখানায় ব্যবহৃত বিদেশি পণ্যের আমদানিকারকের নাম দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে এই আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া খাদ্যজাত পণ্য উৎপাদনকালে মাছি উড়ে বসাসহ বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে পরিদর্শকদের চোখে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের সঙ্গে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান এবং পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎস যশ চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
একইসঙ্গে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, শফিকুল আলম চেয়ারম্যান, মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল এবং ফুলকলি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার জসিম উদ্দীনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, বর্তমান সরকার যেমন ব্যবসাবান্ধব, তেমনি সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায়ও বদ্ধপরিকর।
তিনি জানান, ফুলকলি ফ্যাক্টরির পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল, যার ফলে স্থানীয়দের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই মাস আগে তারা ফ্যাক্টরিটি পরিদর্শন করলে কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে দুই মাসের সময় নেয়।
সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার পুনরায় কারখানাটি পরিদর্শন করা হয় উল্লেখ করে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, তারা কাজ শুরু করলেও কিছু মালামাল না পাওয়ায় পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। তাই পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে তারা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত নতুন করে সময় নিয়েছে।
এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনিচুর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার পরিদর্শনকালে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের জায়গায় মাছি দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি তারা ব্যবহৃত পণ্যের আমদানিকারকের নাম দেখাতে ব্যর্থ হয়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
আগামীতে খাদ্যজাত পণ্য প্রস্তুতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি যাতে যথাযথভাবে মানা হয়, সে বিষয়েও কারখানা কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান আনিচুর রহমান।