
চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি প্রাচীন দিঘিতে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগের কারণে অন্তত ৩০ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত কালিচরণ দিঘিতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের আওতাধীন কালিচরণ নামের এই প্রাচীন দিঘিটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়েছিলেন স্থানীয় এস এম নয়ন এবং জাহেদুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন।
পাঁচ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া প্রায় দুই একর আয়তনের বিশাল এই দিঘিটির মাত্র এক বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি জাহেদুল ইসলাম জুয়েল জানিয়েছেন, এর আগে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ১৮ লাখ টাকায় দিঘির সব মাছ কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা বিক্রি করেননি।
মৎস্যচাষিদের দাবি অনুযায়ী, পুকুরে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ মণ মাছ ছিল। বিষক্রিয়ার ফলে কাতলা, রুই, মৃগেল ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। ইতিমধ্যে অনেক পচা মাছ পানি থেকে তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী এস এম নয়ন আক্ষেপ করে বলেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে তাদের প্রায় সব মাছই মারা গেছে। এর ফলে তারা আর্থিকভাবে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
এই ঘটনায় তাদের অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন এস এম নয়ন।
এদিকে পটিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে জানান, হঠাৎ করে পুকুরে এত মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার কারণেই মাছগুলো মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানালেও পুলিশের তরফ থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।