
“বিগত ১৬ বছর মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষীর ছড়াছড়ি ছিল। এখন যাতে কারও নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি না করা হয়। তখন মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে জুলুম করা হয়েছে। আমার এলাকায় একজন নিরপরাধ মানুষও যেন মিথ্যা মামলার আসামি না হন।”
বুধবার মিরসরাই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন।
যারা চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি করছে এবং সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে চোরাই গরুর ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এক ছাত্রদল নেতা মারা যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য দেন মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী এবং বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী।
এ ছাড়া শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান এবং কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় সভায় তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
একইসঙ্গে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম, মিরসরাই থানার জ্যেষ্ঠ অফিসার শরীফুল ইসলাম এবং মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিনও আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন আরও বলেন, মূলত মাদকের কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।
মিরসরাইয়ে মাদকের অবস্থা খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করে দুই থানার ওসিকে সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।
এর বাইরে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে সতর্ক করেন এই জনপ্রতিনিধি। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফি ব্যতীত কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায়, তেল চুরি এবং প্রশাসনিক চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।