সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা: সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হুমকি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০২৬ | ৯:২৭ অপরাহ্ন


পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন টইটং বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা হলেন বন বিভাগের টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। এ ঘটনায় পেকুয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টইটং ইউনিয়নের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গায় কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে একটি পাকা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সৌদি প্রবাসী রেজাউল করিম ওরফে করিম নামের এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন আনন্দ টিভি ও দৈনিক গণসংযোগ পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন। সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মোতালিব আল মুমিনকে মুঠোফোনে কল করে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অবস্থান জানতে চান। এ সময় বিট কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে আর যোগাযোগ না করার কথাও বলেন। রাশেদ দাবি করেন, তার কাছে মামলার হুমকির কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে।

সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম রাশেদ আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গর্জনীয়া পাড়ার সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণাধীন ভবনটির চারপাশ কালো পলিথিন দিয়ে ঘেরা রয়েছে। বাইরে থেকে যাতে কেউ ভেতরের কাজ দেখতে না পারে, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে সেখানে। পুরো জায়গা কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা এবং মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিস থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে এত বড় নির্মাণকাজ চললেও রহস্যজনক কারণে বন বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে বন কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিনের বিরোধের পর আজ নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বন বিভাগের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এত বড় স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টইটং বনবিট কর্মকর্তা মোতালিব আল মুমিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি সাংবাদিকদের সম্মান করেন। ঘরটি নির্মাণের শুরুতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে মামলাও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিজয় টিভির পেকুয়া প্রতিনিধি দিদারুল করিম বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি বা হয়রানির হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।

দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার পেকুয়া প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনি একটি ভয়েস রেকর্ড শুনেছেন যেখানে একজন সাংবাদিককে মামলার হুমকি দিচ্ছেন ওই বনবিট কর্মকর্তা, যা খুবই দুঃখজনক। সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।