সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও ওষুধের তীব্র সংকট, অচল মহেশখালীর ৩০টি ক্লিনিক

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ | প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০২৬ | ৯:৩৯ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের মহেশখালীতে বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্লিনিক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে ওষুধ ছাড়াই শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে সেবা নিতে যাওয়া রোগী ও গর্ভবতী নারীদের। টানা ৬ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার প্রায় ৩০টি ইউনিয়ন ক্লিনিক সেন্টার বর্তমানে অচল সেবা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়ছেন গ্রামের নারীরা। গত ৬ মাসে মহেশখালীতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্লিনিক থেকে ওষুধ না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে অন্তত সাড়ে ৫ হাজার রোগীকে।

ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে উপজেলার মোহরাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মোবাশ্বেরা বেগম জানান, অসুস্থ হলে ভরসা করে কমিউনিটি ক্লিনিকে যান তারা। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক থাকেন না, ওষুধও থাকে না। এমনকি জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো উপকরণও সেখানে পাওয়া যায় না।

তাই এসব ক্লিনিকের আদৌ প্রয়োজন কী, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোবাশ্বেরা বেগম আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৬ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্রামের সাধারণ মানুষ কার্যত স্বাস্থ্যসেবা থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মহেশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক বা প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের অসুখ ও চুলকানিসহ ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয় এসব ক্লিনিক থেকে। কিন্তু বর্তমানে উপজেলার কয়েকটি ক্লিনিক সেন্টারে শুধু ওরস্যালাইন পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ক্লিনিকে সেটিও মিলছে না। ফলে একদিকে যেমন মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে, অন্যদিকে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা।

উপজেলার কালারমারছড়ার নোনাছড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সেবাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা ওষুধ ছাড়াই অলস সময় পার করছেন। রোগীরা সেবা নিতে গেলেও তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, গ্রামের অনেক নারী অল্পশিক্ষিত হওয়ায় পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ততটা সচেতন নন। তারা গর্ভনিরোধের জন্য ক্লিনিকে গিয়ে সুখী ট্যাবলেট, কনডম বা ইনজেকশন নিতে চান। কিন্তু এসবের কিছুই সেখানে পাওয়া যায় না। পরে বাধ্য হয়ে তাদের বাইরের ফার্মেসি থেকে এসব সামগ্রী নিজেদের খরচে কিনতে হয়।

ওষুধ সংকটের এই চরম বাস্তবতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, সরকার পাঁচ বছরে একবার ইউনিয়ন ক্লিনিকের জন্য মেডিসিন কিট বরাদ্দ করে। ২০২৫ সালে বরাদ্দ পাওয়া ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় এই তীব্র সংকটে পড়তে হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সদা প্রস্তুত আছেন বলে এই কর্মকর্তা দাবি করেন। তিনি জানান, মহেশখালীতে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি রোগী ইউনিয়ন ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহণ করতে আসেন, যাদের অধিকাংশই নারী। গত ৬ থেকে ৭ মাস এই রোগীরা বিভিন্নভাবে ওষুধ নিতে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন।

কবে নাগাদ ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং দ্রুতই এর ইতিবাচক ফলাফল পাবেন বলে আশা রাখছেন।