সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

নরসিংদীতে এক দিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদী প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৭ মে ২০২৬ | ৯:৪৭ অপরাহ্ন


নরসিংদীর বেলাব, রায়পুরা ও মাধবদী উপজেলার পৃথক স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে এক যুবকের মরদেহ ধানক্ষেতে, এক বৃদ্ধের মরদেহ রেললাইনের পাশে এবং আরেক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বেলাব উপজেলার বেলাব-শিবপুর সড়কের পাশে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় একটি ধানক্ষেত থেকে রিয়াজুল ইসলাম আপন মিয়া (২৪) নামে এক ট্রলিচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বাজনাব গ্রামের মোস্তু মিয়ার ছেলে। ট্রলি চালানোর পাশাপাশি কাঠমিস্ত্রির কাজও করতেন তিনি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রিয়াজুল ইসলাম আপন মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অন্য কোথাও থেকে মরদেহ এনে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। নিহতের বাবা মোস্তু মিয়া জানান, বুধবার রাত এশার নামাজের পর বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তার ছেলে। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।

বেলাব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাসির উদ্দীন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধারণা করা হচ্ছে—বুধবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, মাধবদী উপজেলার মনোহরপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী এলাকার রামচন্দ্রদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে মনোহরপুর বোর্ড স্কুল সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও স্বজনরা হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।