
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট চোরাবালির গর্তে আটকে পানিতে ডুবে নুর ইলাহি নাদিম (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার উত্তর কাহারিয়াঘোনার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়ায় মসজিদ সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া শিশু নুর ইলাহি নাদিম ওই এলাকার বাসিন্দা এবং দৈনিক খবরপত্র ও আজকের দেশ-বিদেশ পত্রিকায় চকরিয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক অলি উল্লাহ রনির ছেলে। নাদিম চকরিয়ার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নদীতে পানি কম থাকায় নাদিম তার বন্ধুদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে নদী পার হয়ে ওপারে খেলতে যাচ্ছিল। পথে নদীর মাঝখানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট একটি গভীর গর্তে সে হঠাৎ তলিয়ে যায়।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নাদিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাতামুহুরী নদীতে ডুবে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
তিনি জানান, ঘটনার খবর শোনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, ওই এলাকায় মাতামুহুরী নদীতে অবৈধভাবে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করে আসছে একটি অসাধু চক্র। এর ফলে নদীর বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পানি কম থাকলেও এসব গর্তের কারণে নদী পারাপার হওয়া সাধারণ মানুষ ও শিশুদের জন্য এই নদী এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাংবাদিক অলি উল্লাহ রনির ছেলের এমন অকাল মৃত্যুতে চকরিয়া উপজেলায় কর্মরত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীমহল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।