
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মেয়ের শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় লাকি আক্তার (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের হাট্টটিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ছাফা (৪৫)। তিনি নিহত গৃহবধূর মেয়ের শ্বশুর। তারা উভয়ে সম্পর্কে বেয়াই-বেয়াইন।
নিহত লাকি আক্তার ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী। অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. ছাফা কালাপানিয়া এলাকার খামারবাড়ির বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে লাকি আক্তার গবাদিপশু আনতে বাড়ির পাশে একটি টিলা এলাকায় যান। সন্ধ্যার পর গরু বাড়িতে ফিরে এলেও তিনি আর ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বাড়ির পাশে একটি পাহাড়ি নিচু স্থানে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
রাত ১১টার দিকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. ওসমান ঘটনাস্থলে গিয়ে লাকি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নিহতের নাকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।
নিহতের পিতা আবুল বশর অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় মো. ছাফা তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতেন। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার মেয়েকে কৌশলে ধর্ষণ করে পরে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়ের শ্বশুর মো. ছাফা ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মো. ছাফাকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।