
বিয়ের অনুষ্ঠান, চারদিকে উৎসবের আমেজ। অতিথিদের ভিড়ে জমজমাট আয়োজনের মধ্যেই হঠাৎ বাঁশখালীর মধ্যম গুণাগরী এলাকার এক অভিভাবকের অনুরোধ—“উনি কি ডা. আসিফ সাহেব?” এরপর মেয়ের পুরোনো চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধরতেই সেখানেই রোগীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন চিকিৎসক। কিছুক্ষণ পর কাগজ-কলম এনে দেওয়া হলে বিয়ের স্টেজেই প্রেসক্রিপশন লিখে দেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) এমন একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশংসায় ভাসছেন তরুণ চিকিৎসক ডা. আসিফুল হক। অনেকে এটিকে চিকিৎসকের মানবিক দায়িত্ববোধ ও পেশাগত আন্তরিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, বাঁশখালীর পূর্ব পুঁইছড়ি বশিরা বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ ইসলাম সওদাগরের ছেলে শামিম উল্লাহ আদিলের বিয়ের দিন ধার্য ছিল শনিবার (৯ মে)। সেদিন বরযাত্রী হিসেবে একই উপজেলার মধ্যম গুণাগরী এলাকায় কনের বাড়িতে যান ডা. আসিফুল হক।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি ডা. আসিফুল হককে দেখে এগিয়ে এসে জানান, কয়েক দিন আগে তাঁর মেয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল এবং অনেকটাই সুস্থ হয়েছে। তবে সামান্য কাশি রয়ে গেছে। কথা শুনেই রোগীর বর্তমান অবস্থা জানতে চান চিকিৎসক। পরে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পরামর্শপত্র লিখে দেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসিকতাও কম হয়নি। বিয়ে অনুষ্ঠানের বর শামিম উল্লাহ আদিল প্রেসক্রিপশন লেখার ছবিটি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে মজার ছলে মন্তব্য করলে সেটিও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে পুরো বিষয়টিই ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলছেন, চিকিৎসক মানেই শুধু চেম্বার বা হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়; মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই যেকোনো স্থানে রোগীর পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত ডাক্তারের পরিচয়।
ডা. আসিফুল হক বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হকের ছেলে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ ৩৯তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিকিৎসাসেবায় মানবিক ভূমিকার কারণে এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন এই তরুণ চিকিৎসক। বিশেষ করে করোনাকালে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করেছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে তাঁর ব্যাপক সুনাম রয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. আসিফুল হক বলেন, “মানুষের জীবন বাঁচানোর ব্রত নিয়েই চিকিৎসাপেশায় এসেছি। রোগীর সেবায় নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই। বিয়েবাড়ি হোক কিংবা অন্য যেকোনো জায়গা—যেখানে মানুষ চিকিৎসা-সহায়তা চাইবে, সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সময়ে চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক নিয়ে যখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন ডা. আসিফুল হকের মতো মানবিক আচরণ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ববোধ কেবল হাসপাতালের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এই ঘটনাটি যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।