সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে জলপথ আটকে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে আড়াই হাজার মানুষ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ মে ২০২৬ | ৭:১০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বুড়ি পুকুর পাড় এলাকায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। খাল ও জলাভূমির সংযোগপথ ভরাট করায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অন্তত আড়াই হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় লেলাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাহিদুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহনগর এলাকার বাসিন্দা রশীদ আহাম্মদ ওই এলাকায় একটি ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজের জন্য মাটি ভরাট করায় লেলাং খালসহ আশপাশের পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে বর্ষাকালে পানি আটকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ সাহিদুর রহমান বলেন, এটি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নয়; পুরো এলাকার মানুষের স্বার্থ এখানে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়েই পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছে। পথ বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়বে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজের সময় তার পুকুরপাড়ের প্রায় চার ফুট অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। আপত্তি জানানো হলেও কাজ বন্ধ করা হয়নি।

স্থানীয়রা বলেন, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল, পুকুরপাড় ও জলাভূমির সংযোগপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে ভরাট ও নির্মাণকাজ চলছে, তাতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বসতঘর, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জলাভূমির পাশের নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশে মাটি ফেলা হয়েছে। এতে পানি চলাচলের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রশীদ আহাম্মদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তবে তার ছেলে মো. ইকরাম ফোন রিসিভ করে বলেন, তারা পানি নিষ্কাশনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন না। ভিটা ভরাটের কাজের জন্য সাময়িকভাবে পথটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে আবারও পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই, এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের শুনানি শেষে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।