
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক নুরানি মাদরাসার অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে দুই ঘণ্টা পর তাকে একটি মাদরাসা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার আলী জাফর (২৮) একই ইউনিয়নের আমিলাপাড়া এলাকার হাসান শরীফের ছেলে এবং তিনি সবুজ বাজার আল-হেরা এবতেদায়ী ও নুরানি মাদরাসার অধ্যক্ষ।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সকালে আল-হেরা মাদরাসার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ভিকটিম আলী জাফরকে মারধর করতে করতে আমিলাপাড়ার দিকে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে খবর ছড়িয়ে পড়ে, হামলাকারীরা তাকে জমির হোসেনের বাড়িতে আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে তাকে একটি মাদরাসার কক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পেছনে পাশাপাশি দুটি নুরানি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলার শিকার আলী জাফর বলেন, গত ১০ মে আল-হেরা মাদরাসার উদ্বোধন হয়। সোমবার সকালে কিছু শিক্ষার্থী আমাদের মাদরাসায় আসছিল। তখন ইমাম আজম এবতেদায়ী মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাধা দেন এবং তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যেতে চাপ দেন। খবর পেয়ে আলী জাফর সেখানে গেলে জমির হোসেন, বদিউল আলম মেস্ত্রী, কায়সার মহসিন ও আবু হানিফ তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে জমির হোসেনের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এরপর আবার ইমাম আজম (রা.) মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
আলী জাফর আরও অভিযোগ করে বলেন, এর আগের দিন রাতেও তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আল-হেরা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, ২০২০ সালে আল-হেরা এবতেদায়ী ও নুরানি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে বায়তুন নুর নতুন জামে মসজিদের মাঠে এর কার্যক্রম চলত। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি জমির হোসেনসহ একটি পক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে দিতে চাপ দেয়। পরে তারা সেখানে ‘ইমাম আজম এবতেদায়ী মাদরাসা’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করে। বাধ্য হয়ে আবদুল হালিমরা অন্যত্র কার্যক্রম শুরু করেন। সোমবার কয়েকজন মিলে শিক্ষক আলী জাফরকে মারধর করার সময় তিনি চিৎকার করলেও কেউ ভয়ে এগিয়ে যায়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ছরওয়ার আলম ও অপর অভিভাবক আবু হানিফ বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে মারধর করা অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে ইমাম আজম (রা.) এবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক লোকমান হাকিম বলেন, আলী জাফরকে মারধর করা হয়েছে এবং পরে তিনি লোকমান হাকিমের প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। পুলিশ এসে তাকে নিয়ে গেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে আরেকজন শিক্ষকের ওপর হামলা তিনি কখনোই সমর্থন করেন না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পেকুয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আপ্যায়ন বড়ুয়া। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।