সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা, অচল অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিন

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ১২ মে ২০২৬ | ১১:২৩ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ৮ লাখাধিক জনসাধারণের ভরসার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। নানা সংকটে দিন পার করছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বাজেটের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিন। এ ছাড়া শয্যা সংকটে সিঁড়িতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণের পর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পটিয়া আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল ২০ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। জনসংখ্যা ও সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়লেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্সের চাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজেটের অভাবে সেটি মেরামত করা যাচ্ছে না। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি না থাকায় জরুরি রোগীদের চট্টগ্রাম শহরে নিতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটিরও একই অবস্থা। কয়েকবার নষ্ট হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেরামত করলেও আবারও নষ্ট হওয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে এক্স-রে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। বাজেটের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিন মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিষয়টি স্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তারা পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রোগী সেবা নিতে আসছেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে হাসপাতালের সিঁড়িতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত সপ্তাহে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এক রোগী এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকায় বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বেশি খরচে এক্স-রে করানোর বিষয়টি সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন।

এ সময় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে ঘোষণা দেন। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়াও নষ্ট এক্স-রে মেশিনসহ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

পটিয়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি প্রকৌশলী মোহাম্মদ লোকমান অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের যেসব স্থানে রোগী রাখা হয়, অধিকাংশ জায়গায় ভয়াবহ দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। একটি হাসপাতালের ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনাও নেই বললেই চলে। রোগীরা কীভাবে নাক চেপে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তা কল্পনাতীত।

বাজেট সংকটে অ্যাম্বুলেন্স অচল ও এক্স-রে মেশিন নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, এক্স-রে মেশিনটি কয়েকবার মেরামত করা হলেও এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে সেবা নিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শয্যা সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকলে সিঁড়িতেও সেবা দিতে হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের সেবার মান আগের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে দাবি করেন ডা. আবু তৈয়ব।