
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাটে হাইওয়ে পুলিশের সিগন্যাল মানতে গিয়ে ফলবাহী একটি পিকআপ ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুম্ভারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাগড়াছড়ি থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ফলবোঝাই পিকআপকে নাজিরহাট কুম্ভারপাড়া এলাকায় দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ থামানোর সংকেত দেয়। পুলিশের সিগন্যাল পেয়ে চালক হঠাৎ ব্রেক করলে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাস ও পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসচালকসহ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশ ওই এলাকায় নিয়মিত গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি করে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রহিম উল্লাহ অভিযোগ করে জানান, পুলিশ সেখানে টাকা নেওয়ার জন্য ওঁত পেতে থাকে এবং হুট করে সিগন্যাল দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ঘটনাস্থলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন।
তিনি জানান, তারা নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবে মহাসড়কে গাড়ি তল্লাশি করছিলেন। ফলবাহী পিকআপটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে ওসি মো. মোবারক হোসেন আরও জানান, কোথাও কিছু হলে সব দায় পুলিশের ওপরই পড়ে। মব সৃষ্টি করে কিছু সুযোগসন্ধানী লোক পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়, এতে তাদের গাড়ির গ্লাস ভেঙে গেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ইতোমধ্যে বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়কে অবহিত করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে মামলা বা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম জানান, দুর্ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে এসেছেন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন চিকিৎসাধীন থাকলেও কেউ গুরুতর আহত নন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।