সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক: চুনতির হটস্পটে শুরু চার লেনের কাজ

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন | প্রকাশিতঃ ১২ মে ২০২৬ | ৫:৫৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় দুর্ঘটনা রোধে প্রায় ৯০০ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার রেখে এই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী আবু হানিফ।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে সরেজমিনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এই প্রশস্তকরণ কাজের অগ্রগতি দেখা যায়।

প্রকল্পের বিবরণ থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশের প্রশস্তকরণ কাজ মোট তিনটি প্যাকেজে চলমান রয়েছে। প্রথম প্যাকেজটি সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে শুরু হয়ে লোহাগাড়ার রাজঘাটা এলাকা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন এবং প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে লোহাগাড়ার রাজঘাটা এলাকা থেকে চুনতি মিঠার দোকান পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ কনস্ট্রাকশন, যার বরাদ্দ ৩৪ কোটি টাকা।

তৃতীয় প্যাকেজটি লোহাগাড়ার চুনতি মিঠার দোকান থেকে দক্ষিণ সড়ক বিভাগের শেষ প্রান্ত চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের এই ৬ কিলোমিটার অংশের কাজও বাস্তবায়ন করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। মূলত এই প্যাকেজের আওতাতেই জাঙ্গালিয়া এলাকার হটস্পটে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ মহাসড়কের এই উন্নয়ন ও কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। আবু হানিফ জানান, বর্তমানে মহাসড়কটির সংকীর্ণ ২২ ফুট প্রস্থকে যানজট ও মানুষের চাহিদার প্রেক্ষিতে ৩৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে রাস্তার উভয় পাশে কোথাও ৬ ফুট আবার কোথাও ৭ ফুট করে বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ফরেস্ট অফিস, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের গেইট এবং মিঠার দোকানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হচ্ছে।

আবু হানিফ আরও জানান, জাইকার সহায়তায় পুরো মহাসড়কটি চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। রাতারাতি পুরো সড়কটি চার লেন করা সম্ভব না হলেও, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে জাঙ্গালিয়ার মতো হটস্পটগুলোতে এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ঈদযাত্রার কথা মাথায় রেখে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রকৌশলী আবু হানিফ স্পষ্ট করেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার বা টেকনাফগামী মানুষের যাত্রা যেন নিরাপদ, সাবলীল ও নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য ঈদের আগেই একপাশের কাজ শেষ করার জোর চেষ্টা চলছে। নতুন নকশায় বিদ্যমান রাস্তার সেন্টার থেকে একপাশে ২৪ ফুট এবং অপর পাশে ২৮ ফুট জায়গা নিয়ে কাজ চলছে। মাঝখানে ৪ ফুটের ডিভাইডার থাকবে, যার ফলে দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি লেন তৈরি হবে।

কাজের গুণগত মান সম্পর্কে আবু হানিফ আশ্বস্ত করেন, রোলার ব্যবহারের সুবিধার্থে প্রয়োজনে রাস্তার প্রশস্ততা নির্ধারিত মাপের চেয়েও কিছুটা বাড়িয়ে করা হচ্ছে। এতে ঠিকাদারদের কিছু আর্থিক ক্ষতি হলেও কাজের স্থায়িত্বের স্বার্থে এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

আবু হানিফ গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতেই এই উন্নয়ন কাজ চলছে এবং সকলের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে একটি সুন্দর মহাসড়ক উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।