
মিরপুর টেস্টে মুখোমুখি হবার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচে জয়ের দেখা পায় টাইগাররা। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জেতা ওই দুটি ম্যাচই ছিল পাকিস্তানের মাটিতে। এবার প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টেস্টে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ১৬৩ রানে। ফলে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে নেয় ১০৪ রানে। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা জিতল টানা তিনটি টেস্ট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ ও পাকিস্তান ৩৮৬ রান করেছিল। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করা বাংলাদেশ ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম দিন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৭ রান এবং মুশফিকুর রহিম ২২ রান করে আউট হন। এ ছাড়া লিটন দাস ১১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩ এবং তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন। পাকিস্তানের হাসান আলী ও নোমান আলী ২টি করে উইকেট নেন।
২৬৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে (২) কট-বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তাসকিন আহমেদ। সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল ৫৪ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে থিতু হয়ে বসা আজান আওয়াইসকে (১৫) প্রলুব্ধ করে বোল্ডের স্বাদ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। মাত্র ২ রান করে তিনি নাহিদ রানার গতির কাছে পরাস্ত হন। এর মাঝে এক প্রান্ত ধরে রেখে লড়াকু ফিফটি তুলে নেন আব্দুল্লাহ ফজল। চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ ফজলকে যোগ্য সঙ্গ দেন সালমান আলী আঘা। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় ৩১ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ৩ উইকেটে ১১৬। জয়ের জন্য শেষ সেশনে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৫২ রান।
চা-বিরতি শেষে প্রথম ওভারেই আক্রমণ করতে আসেন তাইজুল ইসলাম। ওভারের একটি বল ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজলের প্যাডে আঘাত করে। আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো শুরুতে আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নেয়। রিপ্লেতে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করতে দেখা গেলে ফজলকে (৬৬) ফিরতে হয় সাজঘরে। ফজল বিদায় নিতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। পরের ওভারেই তাসকিন আহমেদ স্লিপে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন সালমান আলী আঘাকে (২৬)।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল পঞ্চম দিনের শেষ সেশন। যেখানে পাকিস্তানের সব আশা শেষ করে দেন নাহিদ রানা। তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌদ শাকিল (১৫)। এরপর ১৪৭ কিলোমিটার গতির এক ‘ম্যাজিক’ ইন-সুইঙ্গারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (১৫) বোল্ড করেন তিনি। এরপর হাসান আলীকে (১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। একে একে নোমান আলী দ্রুত বিদায় নিলে বাংলাদেশের জয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ইতি টানেন নাহিদ রানা। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৪০ রানে পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ রানা। টেস্টে দ্বিতীয়বার তিনি নিলেন পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ১ উইকেট।