
একুশে পত্রিকায় গত ৫ এপ্রিল ‘খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় ইউক্রেনের আঙুর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় উদ্যোক্তা সালাউদ্দিনের আঙুর বাগান। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বাগানটির খবর প্রকাশিত হয়। সেই খবরের রেশ ধরে এবার এই আঙুর চাষকে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ।
মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ভূঁইয়াছড়িতে সালাউদ্দিনের বাগানসংলগ্ন স্থানে ‘দীঘিনালায় আঙুর চাষ সম্প্রসারণ সম্পর্কিত’ এক গুরুত্বপূর্ণ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস, দীঘিনালা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন এবং দীঘিনালা প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আল আমিন।
উঠান বৈঠকের আগে কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জেলা-উপজেলা থেকে আসা সাংবাদিকরা আঙুর বাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন রঙ ও জাতের আঙুর দেখে সকলেই মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। এ সময় আধুনিক ‘ডিজিটাল রিফ্রেক্টোমিটার’ বা মিষ্টতা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে আঙুরের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, বাজারের সাধারণ বাণিজ্যিক আঙুরের তুলনায় সালাউদ্দিনের বাগানের আঙুর অধিক মিষ্টি ও উন্নত মানের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাগানটি পরিদর্শন শেষে উদ্যোক্তা সালাউদ্দিন একুশে পত্রিকার প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, একুশে পত্রিকার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা তার বাগানে আসেন। এটি তাকে ব্যাপক উৎসাহ জুগিয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকেও তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নানাভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আঙুর চাষ একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় উল্লেখ করে সালাউদ্দিন আরও বলেন, একটি গ্রিনহাউস তৈরি করে দেওয়া হলে তিনি আরও ভালোভাবে আঙুর চাষ করে স্থানীয় মানুষের চাহিদা মেটাতে পারবেন।
দীঘিনালা প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আল আমিন জানান, খাগড়াছড়িতে সালাউদ্দিনের আঙুর বাগানটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। স্থানীয় বাজারের বাণিজ্যিক আঙুর থেকেও তার উৎপাদিত আঙুর বেশি মিষ্টি। তাই তিনি জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কাছে এই উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, তারা সালাউদ্দিনের বাগানটি পরিদর্শন করে তাকে নিয়মিত মনিটরিং ও সহযোগিতা করছেন। তার বাগানে ৬০টিরও বেশি আঙুরের জাত রয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য কিছুটা অনুপযোগী হলেও সালাউদ্দিন তার প্রবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে অনলাইনে ভিডিও দেখে বাগানটি গড়ে তুলেছেন এবং ফলনও পেয়েছেন, যা খাগড়াছড়িতে বিরল। তাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি পাহাড়ে অন্যান্য চাষিদেরও এই উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহী করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, বাগানটি দেখে তারা খুবই উৎসাহিত হয়েছেন। খাগড়াছড়িতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর ফল চাষের এটাই প্রথম চেষ্টা। সালাউদ্দিন আঙুর চাষের জন্য একটি গ্রিনহাউসের আবেদন করেছেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে কৃষি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত অন্যান্যরাও আঙুর চাষি উদ্যোক্তা সালাউদ্দিনের সফলতার খবরটি জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য একুশে পত্রিকার প্রতিবেদকের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।