সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা: তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ

প্রফেসর ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান | প্রকাশিতঃ ১৩ মে ২০২৬ | ৮:১৭ অপরাহ্ন


এমন একজন তরুণ উদীয়মান নেতা সম্পর্কে লিখছি যিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান জনাব তারেক রহমান। যিনি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সামাজিক যোগাযোগ, রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদির কারণে ইতোমধ্যে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। যাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে দেশের কোটি কোটি জনতা তাদের নেতা হিসেবে এক অনবদ্য ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়েছে।

দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক পটভূমি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো দীর্ঘ নির্বাসনের পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল একজন নেতার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় আশির দশকে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে। তবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন ২০০২ সালে, যখন তাঁকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে তাঁর তৃণমূল সম্মেলন কর্মসূচি সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় বিদেশে অবস্থান করেন তারেক রহমান। এই সময়ে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করেন এবং সেখান থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে- ক্ষমতার পালাবদল, গণতান্ত্রিক বিতর্ক, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের নানা আলোচনা সামনে আসে।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি তাঁর দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। বর্তমান যুবসমাজ সংস্কারমুখী রাজনীতির যে দাবি তুলছে, তারেক রহমান তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে সেই সুরেই কথা বলছেন। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন: “রাষ্ট্র কাঠামোর মেরামতে যুবকদের অংশগ্রহণই হবে নতুন বাংলাদেশের মূল ভিত্তি।”

দেশে ফেরা ও প্রতিটি মুহূর্ত

দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের পর জনাব তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন মাত্রা লাভ করে এবং জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর তাঁর দেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। সমকাল ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, তাঁর দেশে ফেরার দিন ঢাকায় রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

দেশে ফেরার পরপরই সামনে আসে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে যায়। যুগান্তর পত্রিকায় ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নতুন কৌশল গ্রহণ করে এবং তরুণ নেতৃত্বকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে এবং সরকার গঠনের সুযোগ লাভ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসে। একইভাবে আল জাজিরা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লিখেছিল, নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ অনুষ্ঠানকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা ট্রিবিউন গণমাধ্যম ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনিক সংস্কারের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি সান ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে লিখেছিল যে, নতুন সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে- প্রথমত, এটি দীর্ঘ নির্বাসনের পর একজন নেতার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের একটি বিরল উদাহরণ। দ্বিতীয়ত, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।

ডেইলি অবজারভারে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয় যে, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা।

আগামীর বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প চিন্তা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান যিনি রাজনীতিতে একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শন উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য প্রায়ই শোনা যায়- “I have a plan for the people of my country and for the country.”

এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম মাসেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১. “ফ্যামিলি কার্ড” ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার: নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে সহায়তা দেওয়া হবে। দৈনিক কালের কণ্ঠ ১০ মার্চ ২০২৬ এক প্রতিবেদনে জানায়, এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এখানে উল্লেখ্য। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ১২ মে ২০২৫ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

২. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে “কৃষক কার্ড” কর্মসূচি: সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে “কৃষক কার্ড” চালুর প্রস্তুতি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি, স্বল্পসুদে ঋণ এবং সার-বীজ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দৈনিক সমকাল ১২ মার্চ ২০২৬ উল্লেখ করেছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং কৃষক সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবে। অন্যদিকে প্রথম আলো ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক প্রতিবেদনে বলেছে, ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ করা হলে কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে।

৩. খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার প্রকল্প: গ্রামীণ কৃষি ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে খাল খনন কর্মসূচি নতুন করে চালু করা হয়েছে। দৈনিক ইনকিলাব ১৫ মার্চ ২০২৬ রিপোর্টে জানায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প: বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দিয়েছে। দৈনিক যুগান্তর ১০ মার্চ ২০২৬ প্রতিবেদনে জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অপচয় রোধে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

৫. শিক্ষা খাতে সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর উদ্যোগ: শিক্ষা খাতে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৈনিক জনকণ্ঠ ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে জানায়, স্কুল-কলেজে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান চালু করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে দৈনিক ইত্তেফাক ১৮ মার্চ ২০২৬ উল্লেখ করে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কারিকুলাম সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৬. মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্প: সরকার বিচারব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দৈনিক দেশ রূপান্তর ১৯ মার্চ ২০২৬ রিপোর্টে জানায়, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

৭. প্রবাসী কল্যাণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগ উন্নয়ন: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ ২১ মার্চ ২০২৬ উল্লেখ করে, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা সেল গঠন করা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

৮. বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও বায়ুদূষণ আমাদের পরিবেশকে দিন দিন বিপন্ন করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী জুলাই মাস থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছেন, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এই উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষা, ফল-মূল, জ্বালানি ও কাঠ দেওয়ার পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছ হয়ে উঠতে পারে ‘সবুজ সম্পদ’ যা একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করবে এবং বিদেশি মুদ্রা অর্জনের পথ তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম আরেকটি হলো ক্রীড়া কার্ড চালু করা। ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ সুবিধা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং চিকিৎসা সহায়তা পাবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিদেশ ভ্রমণ ও উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণমুক্ত আর্থিক সহায়তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শেষ কথা

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, নেতৃত্ব এবং জনমুখী কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলা নির্ভর করবে এই নীতিগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের উপর। তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগসমূহ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ খুব শিগগিরই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

লেখক: অধ্যাপক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।