সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৪ খামার শ্রমিক গ্রেপ্তার

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৪ মে ২০২৬ | ১:৫০ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নবম শ্রেণিপড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া আরেক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৎস্য খামারের চার শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধিপ্যা পাড়ার পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত ছদাহা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শহিদের নালা এলাকায় সাতজন শ্রমিক মিলে ওই স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধিপ্যা পাড়ার ওসমানের ছেলে মো. ছৈয়দ, শাহ আলমের ছেলে মো. রাকিব, মো. নাছিরের ছেলে মো. মানিক ইসলাম এবং আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুর রহিম।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী বুধবার বেলা ১১টার দিকে ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুর পাড়া থেকে শহিদের নাল পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় ঘুরতে যান। সেখান থেকে দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে মৎস্য প্রজেক্টে কর্মরত সাত শ্রমিক মিলে দুই ছাত্রীকে জোরপূর্বক পাহাড়ে নিয়ে যান। এরপর তারা নবম শ্রেণিপড়ুয়া ওই স্কুলছাত্রীকে পাহাড়ের গভীরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় অভিযুক্তরা অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন এবং পাহাড়ের অপর প্রান্তে জোরপূর্বক আটকে রাখেন।

ওই দুই স্কুলছাত্রী বাড়িতে ফিরে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত সাত শ্রমিকের খোঁজ শুরু করেন। খবর পেয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া বাকি তিনজনের খোঁজে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই স্কুলছাত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।