
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘সংখ্যালঘু’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
শুক্রবার দুপুরে পটিয়া ক্লাব মুক্তমঞ্চে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির (বাগীশিক) পটিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সভা ও ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
এনামুল হক এনাম বলেন, “আমাদের এখানে সব ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম পালন করছে। কেউ কাউকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা কেউ সংখ্যালঘু নই; আমরা বাংলাদেশি হিসেবে থাকতে চাই। আপনি যখন বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেবেন, তখন সংখ্যালঘু বলে কিছু থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান— ‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’। এ স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা চলতে চাই। সবাই ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির মধ্যে থাকতে চাই। এখানে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের যে অধিকার, আপনাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। আপনারা এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, এ দেশেই বড় হয়েছেন, শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাই নিজেদের সংখ্যালঘু পরিচয়ে নয়, বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিন। তাহলেই মন বড় হবে।”
ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে মানবিকতা শেখায়। কারও প্রতি হিংসা নয়, বিদ্বেষ ছড়ানো নয়— সবাই শান্তিতে বসবাস করব, এটাই ধর্মীয় শিক্ষা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম পালন করব। প্রতিটি মানুষের উচিত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো আঘাত এলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন এনামুল হক। তিনি বলেন, “এখানে কাউকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো ধর্মের ওপর কেউ আঘাত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ উশৃঙ্খলা করলে কিংবা মাদকসেবীরা আড্ডা দিলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানান।”
বাগীশিক পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি দেবাশীষ ধর বাপনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা, পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক, সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া ক্লাবের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাগীশিক জেলা সভাপতি পুলক চৌধুরী। কর্মসূচির শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরানো ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া দিনব্যাপী আয়োজনে দেশাত্মবোধক গান, গীতা পাঠ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।